বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৮ অপরাহ্ন

চূড়ান্ত সর্বনাশ ঠেকাতে যা করতে হবে

এখনই ডট কম ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০
  • ৩৯ বার দেখা হয়েছে

করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সর্বনাশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। আজ সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রতিদিন এখন গড়ে আড়াই হাজার করে নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এক নতুন সঙ্কটের দিকে এগোচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে এখনো করোনায় মৃতের হার কম। কিন্তু এই আশাবাদ ক্ষণস্থায়ী হবে বলে মনে করছেন সংশয়বাদী বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মনে করছেন যে, যদি রোগীর সংখ্যা বাড়ে তাহলে সঙ্কটাপন্ন রোগীর সংখ্যাও বাড়বে এবং চিকিৎসার অভাবে মৃতের হারও বেড়ে যেতে পারে। 

ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে যে, হাসপাতালে যেমন রোগী মারা যাচ্ছে, তেমনি বাড়িতেও রোগী মারা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই চিকিৎসা ব্যবস্থার কিছু সঙ্কট প্রকাশ্য হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছেনা এবং করোনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে সমস্যাটি প্রকট হয়ে উঠছে তা হলো অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের চূড়ান্ত সর্বনাশ ঘটতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। আর এই চূড়ান্ত সর্বনাশ ঠেকাতে হলে এখনই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতেই এই প্রতিবেদন। আসুন দেখে নেয়া যাক, অতি দ্রুত বিশেষজ্ঞরা কি কি পদক্ষেপ নিতে বলেছেন-

১. ঢাকার বাইরে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ ছিল শুধুমাত্র ঢাকা এবং চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। কিন্তু যত সংক্রমণ বাড়ছে তত দেখা যাচ্ছে যে, ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে, এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় ঢাকার বাইরে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসার তেমন সুযোগ-সুবিধা এখন পর্যন্ত নেই। কিন্তু এই হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকার বাইরে যে হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিকগুলো রয়েছে সেগুলোকে চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। যেন দ্রুত রোগী সংখ্যা বাড়লে হাসপাতালের শয্যা নিয়ে সঙ্কটে পড়তে না হয়। কারণ ইতিমধ্যে শয্যার সঙ্কট শুরু হয়ে গেছে। এখন সুস্থতা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাদ দিলেও প্রায় ৪০ হাজার রোগী রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের হাসপাতালের মোট শয্যার থেকে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। তখন সঙ্কট আরো বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করতে হবে

ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে যখন রোগী বাড়ছে, তখন অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণের কোন বিকল্প নেই বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। হাসপাতালের বিছানা স্থাপিত করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ তৈরি করেই করোনা চিকিৎসার হাসপাতাল বানানো যায় এবং চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এই কাজটির জন্য আর অপেক্ষা নয়, অনতিবিলম্বে কাজ শুরু করা দরকার বলেও তাঁরা মনে করছেন।

৩. চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনার প্রটোকল তৈরি করতে হবে

করোনা চিকিৎসায় বিভিন্ন হাসপাতাল বিভিন্ন রকমের পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এটার ফলে জটিলতা এবং সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। এই কারণে চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনার একটি সুনির্দিষ্ট প্রটোকল নির্মাণ করা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যাতে সবগুলো হাসপাতাল এক এবং অভিন্নভাবে চিকিৎসা দিতে পারে এবং এই ব্যাপারে গবেষণা করা দরকার বলেও মনে করা হচ্ছে। যে পদ্ধতিগুলো এখন পর্যন্ত অনুসরণ করা হচ্ছে, সেই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে কোনটা সবথেকে কার্যকর সেটা নিশ্চিত করে বা একাধিক বিকল্প পদ্ধতি বের করে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করা দরকার বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. বাসায় চিকিৎসার গাইডলাইন প্রয়োজন

করোনা রোগীর ৮০ ভাগই মৃদু উপসর্গ বিশিষ্ট। চিকিৎসকরা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শ্বাসকষ্ট না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, বাসায় বসেই চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু বাসায় বসে চিকিৎসা নেওয়া ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি দেখা যাচ্ছে। সেই বিভিন্ন পদ্ধতির বদলে একটি সুনির্দিষ্ট করণীয় গাইডলাইন তৈরি এবং সেটা ব্যাপকভাবে প্রচার করা দরকার বলে মনে করছেন। কারণ দ্রুত অনেক রোগী আক্রান্ত হওয়ার ফলে হাসপাতালের উপর চাপ কমাতে বাসায় বসে অধিকতর চিকিৎসাই জরুরী।

৫. আরো চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী দরকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা সংক্রমণের শুরুতেই ২ হাজার চিকিৎসক এবং আরো ৩ হাজার নার্স নিয়োগ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি টেকনিশিয়ান নিয়োগেরও অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু করোনা সংক্রমণ যদি বাড়তে থাকে এবং আমাদের দীর্ঘদিন যদি করোনার সঙ্গে বসবাস করতে হয় তাহলে আরো চিকিৎসক নিয়োগের জন্য এখনই কাজ করা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ

করোনা ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

ইমেইল: news@akhone.com
কারিগরি সহযোগিতায়: নি-টেক
11223