বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ১০:৫২ অপরাহ্ন

চূড়ান্তে পৌঁছেছেঃ এখন কমবে করোনা?

এখনই ডট কম ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০
  • ৭৬ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকরা। গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে দুই হাজারের উপরে যে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে- সেটাই চূড়ান্ত পরিসীমা বলে অনেকে মনে করছেন। এই ধারা আরো কিছুদিন অব্যহত থাকার পর বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ কমতে শুরু করবে। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের আরো উলম্ফনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন কোন কোন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন যে, গত ২৮ মে থেকে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি কিছুটা একই ধারায় রয়েছে, এই একই ধারায় থাকাটাই ইতিবাচক। কারণ বাংলাদেশে যেভাবে ১ হাজার থেকে ২ হাজারে লাফিয়ে বেড়েছিল, ঠিক সেভাবে ২ হাজার থেকে লাফিয়ে ৩/৪ হাজার শনাক্তের আশঙ্কা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি। এখন প্রতিদিন দশ হাজারের উপর পরীক্ষা হচ্ছে। তাই কম পরীক্ষা বলারও কোন সুযোগ নেই। 

গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে ১২ হাজার ৬৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সবথেকে আশার কথা হলো এই ২৪ ঘণ্টায় যে হিসেব পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে ১৯ শতাংশ হারে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে ২১ শতাংশের বেশি হারে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, বাংলাদেশে কত নতুন শনাক্ত হলো, তাঁর থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে, শনাক্তের শতকরা হার। শনাক্তের শতকরা হার কম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া যদি একটানা ১ সপ্তাহ করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে, সংক্রমণের হার স্থিতিশীল আছে এবং এটা নতুন করে বাড়ার সম্ভাবনা কম। বাংলাদেশে গত ১ সপ্তাহ ধরে শনাক্তের সংখ্যা ২ হাজার থেকে আড়াই হাজারের ভেতর ঘোরাফেরা করছে। এটাকেই ইতিবাচক মনে করা হচ্ছে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে, এটাই পিক সিজন।

বাংলাদেশ আজ করোনা সংক্রমণের ৮৫ তম দিন অতিবাহিত করেছে। কাজেই এই সময়ে আড়াই হাজার নতুন শনাক্ত খুব একটা উদ্বেগজনক নয়। বিশেষ করে যে দেশগুলোতে করোনা তাণ্ডব চালিয়েছে সেই দেশগুলোর তুলনায়। কোন কোন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে, বাংলাদেশে সামাজিক সংক্রমণ যা ঘটার ঘটে গেছে। এখন এই হার আরো কিছুদিন হয়তো থাকবে। ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত এরকম পরিস্থিতি থাকতে পারে, এরপরে সংক্রমণের হার কমতে থাকবে। কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে দেখা গেছে যে, ৯০তম দিনের পর করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতি থেমে যায় এবং একটা সময়ে সেই হার কমতে শুরু করে। বাংলাদেশ আগামী পাঁচদিন পর ৯০তম দিন অতিবাহিত করবে এবং এরপরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কি হবে তা দেখার বিষয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সবথেকে আশাবাদী হচ্ছেন যে, বাংলাদেশে মৃত্যুর হার অনেক কম এবং গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে মারা গেছে ৩৫ জন, এর ফলে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮১ জন। যেকোন দেশের বিবেচনায় এই হার অত্যন্ত আশা জাগানিয়া খবর এবং মৃত্যুর হার কম থাকার কারণে করোনার ভয়াবহতা আমরা বুঝতে পারিনি। কারণ অন্যান্য দেশগুলোতে করোনায় বিপুলভাবে মৃত্যুহার বেড়েছিল এবং বিপুল মৃত্যুহার থাকার কারণে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এখন এই অবস্থা যদি বাংলাদেশে আগামী পাঁচ থেকে সাতদিন থাকে এবং মৃত্যু হার একই রকম থাকে তাহলে বাংলাদেশ আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াতেই যাবে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অন্যান্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলে যে কোন দেশেই ৯০ থেকে ১০০ দিনের পর করোনার তাণ্ডব আগের মতো থাকেনা। বরং সেটা আগের থেকে কম শক্তিশালী হতে থাকে। এখন বিশেষজ্ঞদের প্রক্ষেপণ করতে হবে যে, আমাদের সর্বোচ্চ সংক্রমণের চূড়ায় আমরা কবে পৌছাবো এবং সেখান থেকে নামার শুরুর মুহুর্তেই আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ

করোনা ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

ইমেইল: news@akhone.com
কারিগরি সহযোগিতায়: নি-টেক
11223