সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

এই মেলায় অর্থ নয়, পণ্যের বিনিময়ে বেচাকেনা হয়

এখনই ডট কম ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে

আসাম বিভিন্ন উৎসব আর মেলার ভূমি। এই রাজ্যের প্রধান উৎসবগুলোর মধ্যে একটি হলো জোনবিল মেলা। জোনবিল মেলা হচ্ছে খাদ্যদ্রব্য বিনিময় করার মেলা। অসমের মরিগাও জেলার অন্তর্গত জাগীরোডে ‘জোনবিল’ নামক একটি বিল আছে। এই বিলের পাড়ে এই মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। তাই এই মেলার নাম ‘জোনবিল মেলা’।

মাঘ বিহুর পরের সপ্তাহে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলার বিশেষ তাৎপর্য হলো ঘরোয়াভাবে উৎপাদিত খাদ্য দ্রব্যের বিনিময় করা। এখানকার সমতলে বসবাসকারী তিওয়া জনজাতির দ্বারা তৈরি করা শুটকি মাছ, পিঠা, সন্দেশ ইত্যাদি পাহাড়ে বসবাসকারী অন্যান্য জনজাতির সঙ্গে বিনিময় করা এই মেলার প্রধান আকর্ষণ। বিভিন্ন জনজাতির সঙ্গে বিনিময় করার ফলে পারস্পরিক সম্পর্কের সৃষ্টি হয়।

মাছ দিয়ে মাছ কিনছেন ক্রেতা

মাছ দিয়ে মাছ কিনছেন ক্রেতা

জোনবিল মেলা কখন শুরু হয়েছিল তার সঠিক দিনক্ষণ কেউই জানে না। তবে পন্ডিতদের অনুমান গোভা রাজ্য প্রতিষ্ঠার সময় এই মেলা শুরু হয়। লোকবিশ্বাসমতে, গোভা রাজ্য প্রতিষ্ঠা করার পর রাজা ও রানি রাতে এই বিলে ঘোরার জন্য বের হন। রাত্রের নক্ষত্রের আলোতে বিল আলোকিত হয়ে ওঠে। আনন্দিত হয়ে রানি ‘হেবে ছনাই পিল হঙদ’ এই উক্তিটি করেন, যার অর্থ নক্ষত্রের মত বিল। অসমীয়া ভাষায় নক্ষত্রকে জোন বলা হয়ে থাকে। কালক্রমে অসমীয়া ও তিওয়া ভাষার সংমিশ্রণ হয়ে জোনবিল নামের উৎপত্তি হয়েছে।এই মেলা সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। যদিও মঙ্গলবার ও বুধবার থেকে এখানে মানুষের সমাগম দেখা যায়। এই মেলা চলাকালীন সময়ে কোনো ধরণের অনুষ্ঠান হয় না। মেলা আরম্ভ হওয়ার পূর্বে রাজা পরিষদ ও বিভিন্ন স্থানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জোনবিলে মাছ ধরেন।  একে ‘রজা মাছ মরা’ অর্থাৎ রাজা মাছ ধরা বলা হয়। মেলার দিন জনসাধারনকে এই বিলে মাছ ধরার জন্য অনুমতি দেয়া হয়।

 বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই জোনবিলে মাছ ধরেন

বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই জোনবিলে মাছ ধরেন

এই মেলায় কোনো অর্থ ব্যবহার করা হয় না। বিনিময় প্রথা হলো জোনবিল মেলার মূল বিষয়। পাহাড়ে বসবাসকারী তিওয়া জনজাতির দ্বারা উৎপাদিত খাদ্য শস্য, কৃষি সামগ্রী যেমন: কচু, হলুদ, মরিচ, ঠেকেরা টেঙা, কলার ফুল, শুকনো মাছ, ঝুড়ি এবং অন্যান্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাছাড়াও বাঁশ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা পোশাকও রয়েছে। আদা, গোলমরিচ এবং হলুদ জাতীয় জিনিসগুলো সাধারণ মনে হতে পারে। এই মেলার বেশিরভাগ জিনিসই প্রকৃতি বা হস্তনির্মিত। এই মেলায় পাহাড়ে বসবাসকারী খাসিয়া, জয়ন্তিয়া, গারো ও কার্বি লোকেরাও অংশ গ্রহণ করেন। বিনিময় প্রথা আরম্ভ হওয়ার সময় এখানে মোরগ লড়াই খেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য পরিচালনা সমিতি গঠন করা হয়। পরিচালনা সমিতি মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির সুব্যবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখেন।ত্রিশ দশকের শেষভাগের এক প্রফুল্ল পাহাড়ি নারী মালা বলেন যে, তিনি এবং তার পরিবার মেঘালয়ের রি ভোই জেলা থেকে এসেছিল। পাহাড়ে মাছ পাওয়া খুবই মুশকিল। তাই তারা বন্য সবজির বিনিময়ে মাছ সরবরাহ করে। যা সমভূমিতে অনুপলব্ধ। এই মেলায় শিশুদের জন্য যাত্রার আয়োজন করা হয়। তাছাড়াও এখানে ভুনা শুয়োরের মাংস, মাছ ইত্যাদি খাবার পাওয়া যায়। এখানে অগ্নিপূজার আয়োজন করা হয়। এখানে প্রতিবছর বিভিন্ন পর্যটকেরা ঘুরতে আসেন।

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ

করোনা ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

ইমেইল: news@akhone.com
কারিগরি সহযোগিতায়: নি-টেক
11223