বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩৩ অপরাহ্ন

যেসব ছোট ছোট আমল পূর্বের সব গুনাহ মিটিয়ে দেয়

এখনই ডট কম ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০
  • ৬৪ বার দেখা হয়েছে

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ইমাম যখন আমিন বলে, তখন তোমরা আমিন বলো। কেননা যার আমিন ফেরেশতার আমিনের সঙ্গে মিলে যায়, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (সহিহুল বুখারী, হা: ৭৮০ ; সহিহ মুসলিম, হা: ৪১০)।

আমরা একটু চেষ্টা করলেই কিছু ছোট ছোট আমল খুব সহজেই করতে পারি। যে আমলগুলো আমাদের পূর্বের সব গুনাহ মিটিয়ে দেয়। আর এতে আমাদের অতিরিক্ত সময়ও লাগবে না।

চলুন তাহলে দেখে নিই- ছোট ছোট সেই আমলগুলো- 

(১) পরিপূর্ণভাবে ওজু করা: 

প্রিয়নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে ওজু করে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। ফলে তার সালাত এবং মসজিদে গমন, নফল হিসেবে বিবেচিত হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হা: ২২৯)।

(২) ওজু-পরবর্তী দুই রাকাত সালাত:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অতি উত্তমভাবে ওজু করে এমনভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করে, যাতে দুনিয়াবি কোনো চিন্তা আসে না, তাহলে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (সহিহুল বুখারী, হা: ৬৪৩৩; সহিহ মুসলিম, হা: ২২৬)।

(৩) রুকু থেকে দাঁড়িয়ে দোয়া পাঠ: 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ইমাম যখন ‘সামি আল্লা-হু লিমান হামিদা’ বলে, তখন তোমরা ‘আল্লাহম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ’ বলো। কেননা যার বলা ফেরেশতাদের বলার সঙ্গে মিলে যায়, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’
(তিরমিযী, হা: ২৬৭; সহিহ)।

(৪) সূরা ফাতিহা শেষে ‘আমিন’ বলা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ইমাম যখন আমিন বলে, তখন তোমরা আমিন বলো। কেননা যার আমিন ফেরেশতার আমিনের সঙ্গে মিলে যায়, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (সহিহুল বুখারী, হা: ৭৮০ ; সহিহ মুসলিম, হা: ৪১০)।

(৫) খাবার শেষে দোয়া পাঠ করা: 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি খাবার শেষে বলল, ‘আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ব‘আমানী হাযা ওয়া রযাক্বানীহি মিন গইরি হাওলিম মিন্নী ওয়া লা- কুওওয়াতিন’ তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (তিরমিযি, হা: ৩৪৫৮; হাসান )।

(৬) পোশাক পরিধানের দোয়া পাঠ করা: 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পোশাক পরিধানের সময় বলে, ‘আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী কাসা-নী হাযা- ওয়া রযাক্বানীহি মিন গইরি হাওলিম মিন্নী ওয়া লা- কুওওয়াতিন’ তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (আবূ দাউদ, হা: ৪০২৩; হাসান)।

(৭) আজানের দোয়া পাঠ করা: 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আজানের সময় বলে, ‘ওয়া আনা আশহাদু আন লা- ইলাহা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহ, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রাসূলুহ, রযীতু বিল্লা-হি রব্বা-, ওয়া বি মুহাম্মাদি রাসূলা-, ওয়া বিল ইসলা-মি দ্বীনা-’ তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হা: ৩৮৬)।

(৮) ফরজ সালাত পরবর্তী তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর পাঠ করা: 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে-ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার বলে- এই হলো ৯৯ বার এবং ১০০ বার পূর্ণ করবে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহু, লাহূল মুলকু ওয়া লাহূল হামদু , ওয়া হূওয়া ‘আলা কুল্লি শায়য়িন কাদির’ এর মাধ্যমে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হা: ৫৯৭)।

(৯) ১০০ বার ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করা: 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে-ব্যক্তি ‘সুব্হানাল্লা-হি ওয়া বিহাম্দিহি’ দিনে ১০০ (একশ) বার পাঠ করে, আল্লাহ তায়ালা তার সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমাণ গুনাহ মাফ করে দেন।’ (সহিহ বুখারী হা: ৬৪০৫)।

(১০) ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা- হাওলা ওয়া লা- কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ’ পাঠ করা: 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা- হাওলা ওয়া লা- কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ’ পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমান গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (তিরমিযী, হা: ৩৪৬০; হাসান)।

(১১) ফজরের সালাতের পর ১০০ বার ‘সুবহা-নাল্লাহ’ এবং ১০০বার ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা: 

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে-ব্যক্তি ফজরের সালাতের পর ১০০ বার ‘সুবহা-নাল্লাহ’ এবং ১০০ বার ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।’ (নাসায়ী, হা: ১৩৫৪, সহিহ)।

(১২) বিছানায় দোয়া পাঠ করা: 

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিছানায় ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহ, লাহূল মুলকু ওয়া লাহূল হামদু , ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শায়্য়িন ক্বদীর, লা- হাওলা ওয়া লা- কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ, সুবহা-নাল্লা-হ, ওয়াল হামদুলিল্লা-হ, ওয়া লা- ইলা-হা ইল্লাল লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার’ পাঠ করে, তার সমস্ত গুনাহ মাফ করা দেয়া হয়। যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার চেয়েও বেশি হয়।’ (ইবনু হিব্বান, হা: ৫৫২৮, সহিহ)।

(১৩) পরস্পর সাক্ষাতে সালাম দিয়ে মুসাফাহা করা: 

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘দুজন মুসলমান পরস্পর মিলিত হয়ে মুসাফাহা করলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই তাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ (আবু দাউদ, হা: ৫২১২, সহিহ)।

প্রিয় পাঠক, একটু চেষ্টা করলেই আমরা উপরোক্ত আমলগুলো খুব সহজেই করতে পারি।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে উপরোক্ত আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ

করোনা ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

ইমেইল: news@akhone.com
কারিগরি সহযোগিতায়: নি-টেক
11223