সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

রাসূলের (সা.) নিকট উত্তম যে ব্যক্তি

এখনই ডট কম ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০
  • ৩৮ বার দেখা হয়েছে

বিশ্ব মানবতার মুক্তিদূত, সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

মক্কার এক কিশোর, যিনি তখনও যৌবনে পদার্পণ করেননি। কুরাইশ গোত্রের এক সর্দার ‘উকবা ইবন আবু মু’ইতের একপাল ছাগল নিয়ে তিনি মক্কার গিরিপথগুলোতে চড়িয়ে বেড়াতেন।

নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে উঠে ‘উকবার ছাগলের পাল নিয়ে বের হয়ে যেতেন আর সন্ধ্যায় ফিরতেন।

একদিন এ কিশোর ছেলেটি দেখতে পেলেন, দু’জন বয়স্ক লোক, যাদের চেহারায় আত্মমর্যাদার ছাপ বিরাজমান, দূর থেকে তার দিকেই এগিয়ে আসছেন। তাঁরা এত পরিশ্রান্ত ও পিপাসার্ত ছিলেন যে, তাদের ঠোঁট ও গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। কাছে এসে লোক দু’টি সালাম জানিয়ে বললেন, ‘বৎস! এ ছাগলগুলো থেকে কিছু দুধ দুইয়ে আমাদেরকে দাও। আমরা পান করে পিপাসা নিবৃত্ত করি এবং আমাদের শুকনা গলা একটু ভিজিয়ে নেই।’

ছেলেটি বললেন, ‘এ আমার দ্বারা সম্ভব নয়। ছাগলগুলো তো আমার নয়। আমি এগুলোর রাখাল ও আমানতদার মাত্র।’

লোক দু’টি তার কথায় অসন্তুষ্ট হলেন না, বরং তাদের মুখ মন্ডলে এক উৎফুল্লতার ছাপ ফুটে উঠলো। তাঁদের একজন আবার বললেন, ‘তাহলে এমন একটি ছাগী আমাকে দাও যা এখনো পাঁঠার সংস্পর্শে আসেনি।’ ছেলেটি নিকটেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছোট্ট ছাগীর দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলেন। লোকটি এগিয়ে গিয়ে ছাগীটি ধরে ফেলেন এবং ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ বলে হাত দিয়ে ধরে তার ওলান মলতে লাগলেন।

অবাক বিস্ময়ে ছেলেটি এ দৃশ্য দেখে মনে মনে বললেন, ‘কখনও পাঁঠার (পুরুষ ছাগলের) সংস্পর্শে আসেনি এমন ছোট ছাগী কি করে দুধ দেয়?’

কিন্তু কি আশ্চর্য! কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাগীর ওলানটি ফুলে উঠে এবং প্রচুর পরিমাণ দুধ বের হতে থাকে। দ্বিতীয় লোকটি গর্তবিশিষ্ট পাথর উঠিয়ে নিয়ে বাঁটের নীচে ধরে তাতে দুধ ভর্তি করেন। তারপর তাঁরা উভয়ে পান করেন এবং ছেলেটিকেও তাঁদের সঙ্গে পান করালেন। ছেলেটি যা কিছু দেখছিলেন সবই তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। সবাই যখন পরিতৃপ্ত হলেন তখন সেই পুণ্যবান লোকটি ছাগীর ওলানটি লক্ষ্য করে বললেনঃ ‘চুপসে যাও।’ আর অমনি সেটি পূর্বের ন্যায় চুপসে গেল।

এরপর কিশোর ছেলেটি সেই পুণ্যবান লোকটিকে অনুরোধ করলেন, ‘আপনি যে কথাগুলো উচ্চারণ করলেন, তা আমাকে শিখিয়ে দিন।’ লোকটি বললেন, ‘তুমি তো শিক্ষাপ্রাপ্ত বালক।’

এ মহাপুণ্যবান ব্যক্তিটি আর কেউ নন, তিনি স্বয়ং বিশ্ব মানবতার মুক্তিদূত, সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আর তাঁর সঙ্গীটি ছিলেন হজরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)। কুরাইশদের অত্যাচার উৎপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য এ সময় তাঁরা মক্কার গিরিপথ সমূহে আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাসূল (সা.) ও তাঁর সঙ্গীকে যেমন ছেলেটির ভালো লেগেছিল তেমনি তাঁদের কাছেও ছেলেটির আচরণ, আমানতদারী ও বিচক্ষণতা খুব চমৎকার মনে হয়েছিল।

এ ঘটনার অল্প কিছুদিন পরেই সেই কিশোর ছেলেটি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠতম মানুষের খাদিম হিসেবে নিজেকে উৎসর্গ করেন।

ছাগলের রাখালী সেই সৌভাগ্যবান বালকটি ছিলেন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)। তিনি নবী গৃহে প্রতিপালিত হন, তাঁকে অনুসরণ করেন এবং তাঁরই মতো আচার-আররণ ও চরিত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হন। এ কারণে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘হিদায়াত প্রাপ্তি, আচার-আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে তিনি-ই হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিকট উত্তম ব্যক্তি।’

সূত্র: আসহাবে রাসূলের জীবনকথা: ১ম খন্ড

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ

করোনা ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

ইমেইল: news@akhone.com
কারিগরি সহযোগিতায়: নি-টেক
11223